ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন। সংগঠন 'হামাস' একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে ফিলিস্তিন মনে করে ইসরায়েল পৃথিবীর বৃহত্তম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী। আতঙ্কিত।
উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
সমাজতন্ত্র প্রসারের ভীতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইউরোপ ধীরে ধীরে সাম্যবাদের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করে। ফলে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব তৈরি হয়।
গ্রিসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: ব্রিটেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে গ্রিসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হস্তক্ষেপ করলে রাশিয়া বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ফলে স্নায়ুযুদ্ধের অবস্থা সৃষ্টি হয়।
ইরান সমস্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করে। তখন উত্তর ইরান সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে ছিল। কথা ছিল ছয় মাসের মধ্যে মিত্রশক্তি ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। কিন্তু তা না হওয়ায় দুই শক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
জার্মানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া জার্মানির কাছে ১০,০০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সন্দেহের ঢেউ জাগতে থাকে।
উপসাগরীয় বিরোধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি শক্তিকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে। এটি স্নায়ুযুদ্ধকে প্রসারিত করেছিল। এছাড়াও সোভিয়েত-তুরস্ক দ্বন্দ্ব, আণবিক বোমা সমস্যা প্রভৃতি স্নায়ুযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।
সুতরাং বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণেই স্নায়ুযুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছিল।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?